করোনার উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, পরিবার উধাও

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক নারীর (৫০) লাশ দাফন না করেই পরিবারের লোকজন উধাও হয়ে গেছে। উপজেলার বরকাশিয়া বিরামপুর (বাহাম) গ্রামে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নাজমা নামের একজন নারী মারা গেলে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওএমও ও পুলিশের লোকজন স্থানীয় ইসলামি ফাউন্ডেশনের ওলামাদের নিয়ে পৌর কবরস্থানে বিকালে লাশ দাফন সম্পন্ন করেন।

মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুবীর সরকার জানান, বাহাম গ্রামের শহর আলীর স্ত্রী সকালে মারা যান। পরে তাদের ভাতিজা আমাদেরকে ফোন দিয়ে জানান করোনায় তাদের একজন মারা গেছে। লাশ নিয়ে আসতে। তারা দাফন করতে পারবে না। জিজ্ঞাসা করলাম, করোনায় মারা গেছে বুঝলেন কেমন করে? তখন বললো যে, শ্বাসকষ্ট ডায়রিয়া হয়েই মারা গেছে রোগী। তারা গতকাল হাসপাতালে নমুনা দিয়ে গেছেন। তাদেরকে নাকি এলাকাবাসীও চাপ দিচ্ছে লাশ সরাতে। এসব নানা কথা বলে একটু পরপর অনেক মানুষ ফোন দিতে থাকেন। পরে তাদেরকে বললাম আমরা আসছি একটু সময় দেন।

তিনি বলেন, ইসলামি ফাউন্ডেশনের সাথে কথা বলালাম। থানার ওসিসহ আমরা গিয়ে লাশ এনে বিকালে পৌর কবরস্থানে দাফন করেছি। এমনকি লাশের কাফনের কাপড়টাও তারা কিনেননি। কাফনের কাপড়ের কথা বললে জানায়, আপনারাই দেন। বাড়িটিও হাফবিল্ডিং। এমন না যে দরিদ্র।

ডাক্তার আরো জানান, তাদের আচরণে অবাক হয়ে গেলাম। স্তম্ভিত ওদের কথা শুনে। লাশের গোসল করাতেও কেউ আসেনি। আমরাই পরে কাফনের কাপড় নিয়ে গিয়ে একজন মহিলাকে ধরে এনেছি গোসলটা অন্তত করাতে চেয়েছি। কিন্তু তিনিও করোনা ভয়ে লাশ ধরেননি। কোন রকমে দোয়া পড়ে পানির ছিটা দিয়ে রেখে দিলেন। পরে আমরা কয়েকজন জানাজা দিয়ে লাশ দাফন করেছি।

এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান জানান, বিকাল ৩ টার দিকে পৌর কবরস্থানে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এদের ভেতরে কেমন মানবতা সেটা জিজ্ঞাসা করেতও খুঁজে পরিবারের কাউকে পাইনি। তাদের সাথে সাথে এলাকাবাসীও উধাও হয়ে যায়।

Sharing is caring!