হজ্জের জমানো টাকা করোনায় দুঃস্থদের মাঝে দান করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

করোনার দুর্দিনে সমস্যাগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হজ্জের জন্য জমানো টাকা অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি ড্রিস্ট্রিক্ট স্পেশাল ব্রাঞ্চ (ডিএসবি)এ কর্মর’ত এস আই জহির উদ্দিন নিজ জন্মস্থান নোয়াখালী জে’লার কবিরহাট উপজে’লাসহ লক্ষীপুর জে’লার রামগঞ্জের কয়েকশ’ পরিবারের মাঝে উপহার স্বরূপ প্রয়োজনীয়

খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দীন দীর্ঘ চাকুরী জীবনে পবিত্র হজ্জের জন্য জমানো প্রায় দুই লক্ষ টাকা চলমান করোনাঅভাবগ্রস্থ মানুষদের সহায়তায় দান করেছেন।

নিজ জন্মস্থান নোয়াখালী জে’লার কবিরহাটে ২০০টি পরিবার, কর্মস্থল লক্ষীপুর জে’লার রামগঞ্জ উপজে’লার প্রায় ৫০টি দুঃস্থ পরিবার ও বর্তমান কর্মস্থল রাঙ্গামাটিতে করোনাপজিটিভ রোগীদের মাঝে মোট দুই লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও নগদ অর্থ পৌছে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। চিত্র: অসহায় পরিবারের মাঝে এস আই জহির উদ্দীনের ভালোবাসার উপহার।

মানব সেবায় উদাহরণ সৃষ্টিকারী এস আই জহির উদ্দীন এ ব্যাপারে বলেন, ‘টাকাগু’লো হজ্জের জন্য সঞ্চয় করেছিলাম। ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে হজ¦ করব। কিন্তু, করোনাভাইরাসের কারণে

চোখের সামনে মানুষজন যেভাবে কষ্ট পাচ্ছে তা কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না। তাই সি’দ্ধান্ত নিলাম এই টাকাগু’লো দিয়ে অসহায় মানুষগু’লোর পাশে দাঁড়াই। এতে খেটে-খাওয়া মানুষগু’লোর কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হবে।’তিনি বলেন, ‘মূলত করোনার এই দুর্দিনে আমি আমা’র জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি আশপাশের পরিচিত-অ’পরিচিত সমস্যাগ্রস্থ মানুষগু’লোর জন্য কিছু একটা করার। যাতে তারা ক্ষুধার কষ্টে না মা’রা যায়।

করোনাভাইরাস সমস্যা একটা সময় ঠিকই চলে যাব’ে। কিন্তু, অভাবের তাড়নায় যদি অসহায় মানুষগু’লো চোখের সামনে ছটফট করে মা’রা যায় তাহলে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিব?

হজ্জের টাকা অসহায় মানুষদের পেছনে ব্যয় করেছি। আল্লাহ খুশি থাকলে আগামীতে তিনিই আমা’র ও আমা’র পরিবারের হজ্জের ব্যবস্থা করে দিবেন।’ উল্লেখ্য যে, এস আই জহির উদ্দীন লক্ষীপুর জে’লার রামগঞ্জউপজে’লায় দায়িত্ব পালনকালে অত্র অঞ্চলের একাধিক পঙ্গু’ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ, ঘর নির্মাণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ নানাভাবে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ফলে রামগঞ্জ উপজে’লায় মানবতার ফেরিওয়ালা নামেও ডাকা হয় এই পুলিশ কর্মকর্তাকে। আর তাই দেশের করোনার দুর্যোগকালেও নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সমাজের অসহায় মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনগণের বন্ধু তথা পুলিশ কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দীন।

Sharing is caring!