যেভাবে পাবেন,১২ মে নগদ ২৫০০ টাকা করে পাবেন দেশের ৫০ লাখ পরিবার

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়া ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। চলতি মাসের ১২ তারিখে এই সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে সাড়ে ১২ শো কোটি টাকা। এর আওতায় এককালীন ২৫০০ টাকা করে পাবে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টানা ছুটিতে বন্ধ অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

এই পরিস্থিতিতে শ্রমের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিপাকে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়া ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে তালিকা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্তদের ২৫০০ টাকা করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে কর্মহীন মানুষের খাদ্য সহায়তার সারাদেশে জন্য এরই মধ্যে ১৪ দফায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টন চাল ও প্রায় ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশু খাদ্যের সহায়তা হিসাবে সাত দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, খাদ্য সহায়তা হিসাবে চলতি মাসে আরো এক লাখ টন চাল বরাদ্দ হচ্ছে। জুন মাসে বরাদ্দ হবে আরো ২ লাখ টন চাল।

এদিকে করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে আরও চার দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়। ৬ষ্ঠ দফায় ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৭ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ৬ মে’র বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি এবং ১৫ ও ১৬ মে’র সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। আর এই সাধারণ ছুটি থাকায় দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। কর্মহীন মানুষের অবস্থা দিন দিন খুবই বাজে পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে কর্মহীনতার প্রভাবের কথা বিচার করে আগামী ১৭ মে থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সরকার সাধারণ ছুটি আর বাড়াবে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক নেতাকর্মীরা। করোনা এবং অর্থনীতি দুটোকে সমন্বয় করেই দেশকে এগিয়ে নিতে তারা পরিকল্পনা করছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচ হাজার ২৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় পাঁচ হাজার ৪৬৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ১৬ হাজার ৯১৯টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৬৩৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরো আটজন। এদের সবাই পুরুষ। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৪-এ। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো ৩১৩ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই হাজার ৪১৪ জন।

Sharing is caring!