করোনার চিকিৎসায় গবেষণা: ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতায় মৃত্যু বেশি হচ্ছে

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হারের সঙ্গে ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতার সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, যাদের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতা রয়েছে তাদের করোনাভাইরাসে মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। সূর্যের আলোবঞ্চিত ‘নর্ডিক’ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে, হার্বাল ওষুধ ‘কোভিড অর্গানিকস’ খেলে ১০ দিনের মধ্যে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে আফ্রিকার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে। এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক হার্বাল ওষুধ ও চা পানে মানুষকে বিরত থাকতে বলেছে সংস্থাটি। খবর নিউইয়র্ক পোস্ট ও এএফপির।

যুক্তরাজ্যের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও ইংল্যান্ডের ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার সংক্রমিত হওয়া মৃত্যুর সঙ্গে ভিটামিন ‘ডি’র মাত্রার ‘উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক’ রয়েছে। ইউরোপের ২০টি দেশে করোনায় মৃত্যুর হারের সঙ্গে ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতার সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টার করেন গবেষকরা। তারা বলছে, সূর্যের আলো বঞ্চিত ‘নর্ডিক’ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট দেয়ার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। তবে ওই গবেষণার পিয়ার রিভিউ করা হয়নি।

এর আগে একটি গবেষণায়ও একই ধরনের দাবি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যে, ভিটামিন ‘ডি’ পর্যাপ্ত থাকলে রেসপিরেটরি সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন এক গবেষণায় জানায়, সংক্রমণের সময় রেসপিটেরি সংক্রমণ ঠেকাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকরা জানান, যারা ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে তাদের বুকে সংক্রমণের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়।

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ‘কোভিড অর্গানিকস’ ওষুধ আফ্রিকা মহাদেশে ভাইরাল হয়েছে। মাদাগাসকারের মালাগাছি ইন্সটিটিউট অব অ্যাপ্লায়েড রিসার্চের ডা. জেরোমি মুনিয়াগি ‘কোভিড অর্গানিকস’ তৈরি করেছেন। ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় কার্যকর ‘আর্তেমিসিয়া’ গাছের সঙ্গে অন্য ঔষধি গুণসম্পন্ন লতাপাতা দিয়ে এ ওষুধ তৈরি করা হয়েছে।

এ হার্বাল ওষুধের প্রচারণা করেছেন মাদাগাসকারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা। মাদাগাসকার সরকারকে ক্লিনিক্যালি টেস্ট করতে উপদেশ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করতে যে এটা সত্যিই করোনা মুক্তিতে কাজ করে। এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক হার্বাল ওষুধ ও চা পানে মানুষকে বিরত থাকতে বলেছে সংস্থাটি। যেসব দেশ এ হার্বাল ওষুধ কিনেছে ও কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে তাদেরও সতর্ক করা হয়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক মাতশিদিসো মোয়েতি বলেছেন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এমন হার্বাল ওষুধ কেনার আগ্রহ আফ্রিকার যেসব দেশ দেখিয়েছে তাদের আমরা সতর্ক করতে চাই। পাশাপাশি এ ওষুধ কেনার ব্যাপারে নিষেধও করতে চাই। আমরা বুঝতে পেরেছি যে মানুষ এমন কিছু খুঁজছে যেটা করোনা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

তবে এসব ওষুধের ব্যাপারে আমরা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ চাই। এসব ওষুধের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ব্যাপারে উৎসাহ দিতে চাই। আশা করছি ওই দেশের সরকার আমাদের একথা দেবে যে তারা এটার বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে দেখাবে।

২০০০ সালে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে কথা দিয়েছিল, এ ধরনের মহামারীর সময়ে কোনো হার্বাল ওষুধ কিংবা ‘ট্র্যাডিশনাল থেরাপি’ প্রয়োগের আগে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করে নেবে। কিন্তু সেটা না করেই মাদাগাসকারের প্রেসিডেন্ট প্রচারণা চালিয়েছেন। এরমধ্যেই ‘কোভিড অর্গানিকস’ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গিনি বিসাউ, নাইজার, তাঞ্জানিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া আরও অনেক দেশ কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। বুধবার এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকাও।

Sharing is caring!