করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির দাফন করায় ইমাম চাকরিচ্যুৎ

ফেনীর সোনাগাজীতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির দাফন কাজে সহায়তা করায় এক মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুৎ করার অভিযোগ উঠেছে।চাকরি হারানো ইমাম মাওলানা মো. নূর উল্যাহ সোনাগাজী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বক্সআলী ভূঁইয়া বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ ওই মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও গত ১৯ জুন শুক্রবার জুমার নামাজ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।মসজিদ পরিচালনা কমিটির ভয়ে চাকরি ছেড়ে তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সাতারবাড়িয়া গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ইমাম মাওলানা নূর উল্যাহ দাবি করেছেন। যদিও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাকে ছুটি দিয়ে মসজিদের মুসল্লীদের তোপের মুখ থেকে রক্ষা করেছেন।ইমাম মাওলানা নূর উল্যাহ জানান, গত ১৭ জুন বিকালে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা জিয়াউল হক করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজীর কাফন-দাফন টিমের সদস্য হিসেবে মাওলানা নূর উল্যাহও দাফন কাজে অংশগ্রহণ করেন।এতে মসজিদ কমিটি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শুক্রবার ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহিত দেয়। তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে তাকে সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়।মসজিদ কমিটির লোকজন উত্তেজিত হয়ে হাফেজ রহমত উল্যাহকে দিয়ে জুমার নামাজ আদায় করান। মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কমিটি ও মুতাওয়াল্লিদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।মসজিদ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাখাওয়াত হোসেন আলাউল বলেন, মাওলানা নূর উল্যাহর বিষয়ে কমিটির অভিযোগ, তিনি কমিটির অনুমতি না নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত দুই ব্যক্তির দাফন-কাফনে (গোসল ও আনুষঙ্গিক কাজ) অংশগ্রহণ করেন, তাই মুতওয়াল্লীদের মাধ্যমে ইমামের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে ছুটি দেয়া হয়েছে।চাকরিচ্যুৎ করা হয়নি। ইমামকে ছুটি বা চাকরিচ্যুৎ করার দায়িত্ব মুতাওয়াল্লীদের। আমাদের কমিটির দায়িত্ব নয়। তবে আমি তাকে ছুটি দিয়ে জনরোষ থেকে রক্ষা করেছি।মসজিদের মুতাওয়াল্লী আলমগীর হোসেন বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মসজিদে উপস্থিত ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে সবকিছু আমার জানার বাইরে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজীর ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানান, মাওলানা নূর উল্যাহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজী উপজেলার করোনা/উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন কমিটির একজন সদস্য। তাকে মসজিদে প্রবেশ করতে না দেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব ও সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনকে অবগত করেছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু বলেন, এটি সত্যিই অনেক দুঃখজনক। যেখানে পরিবারের লোকজনকেও অনেক সময় পাশে পাওয়া যায় না। সেখানে উনারা সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে এমন কাজ করছেন। তাদের চাকরিচ্যুৎ না করে দেখা-শুনা করা উচিত। তারা বর্তমান সময়ের বড় যোদ্ধা।করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির দাফন কাজে অংশ নেয়ায় মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুৎ করার খবরে সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সর্বত্রই নিন্দার ঝড় উঠে

Sharing is caring!