করোনাভাইরাস ‌’দুর্বল হয়ে বাঘ থেকে বেড়ালে পরিণত হচ্ছে’ – বিবিসি

নতুন করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এখন ‌‘দুর্বল হয়ে পড়ছে’ – বলছেন একজন ইতালিয়ান বিশেষজ্ঞ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় এর সংক্রমণ কমে এলেও, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা আর দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনো প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

তবে ইতালির সান মেরিনো হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাত্তিও বাসেত্তি ব্রিটেনের দৈনিক টেলিগ্রাফকে বলেছেন, গত মাস থেকে করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভাইরাসটি এখন “বাঘ থেকে বুনো বেড়ালে পরিণত হয়েছে।“

“যে রোগীরা কিছুদিন আগে আক্রান্ত হলে মারা যেতেন – তারা এখন সেরে উঠছেন‍” , দাবি করেন অধ্যাপক বাসেত্তি।

তিনি আরো বলেন, “সংক্রমণের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । এর মানে হলো এটি হয়তো আর ফিরবে না, টিকারও দরকার হবে না।“

তার সাক্ষাৎকারটি ব্রিটেন ও ইউরোপের বেশ কিছু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্য আরেকজন ইতালিয়ান বিশেষজ্ঞ আলবাতেূা জাংগ্রিলোও মে মাসে বলেছিলেন, কোভিড-১৯ তার প্রথম দিককার শক্তি হারিয়ে দুর্বল এবং কম মারাত্মক হয়ে পড়েছে।

তবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এবং অন্য আরো কিছু বৈজ্ঞানিক জুন মাসের শুরুতে বলেছিলেন, করোনাভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়ছে এমন মনে করার পক্ষে কোন তথ্যপ্রমাণ নেই।
বিবিসির এক গবেষণায় বলা হচ্ছে করোনাভাইরাস মহামারিতে সারা পৃথিবীতে মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার বলা হলেও- বিশ্ব জুড়ে আসলে এ সময় আরো কমপক্ষে ১ লক্ষ ৩০ হাজার লোক মারা গেছে।

জরিপে মোট ২৭টি দেশের উপাত্ত পরীক্ষা করা হয়েছে, এবং তাতে দেখা যায় যে মহামারির সময়কালে বিভিন্ন দেশে – ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা হিসেবে নেয়ার পরও দেখা যাচ্ছে যে ‘সার্বিকভাবে’ মৃত্যুর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।

এই ‘অতিরিক্ত’ মৃত্যুগুলোর সংখ্যা হিসেব করে দেখা যাচ্ছে – তা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর যে সংখ্যা সরকারগুলো বলছে – তার চেয়ে অনেক বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মধ্যে হয়তো কিছু মৃত্যু আছে যা কোভিড-১৯এ মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি। তবে অন্য মৃত্যুর পেছনে হয়তো মহামারির সময় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর যে চাপ পড়ে তা সহ অন্য নানা কারণ কাজ করেছে।

স্পেনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে জারি করা জরুরি অবস্থা তিন মাস পর তুলে নেয়া হয়েছে, দরজা খুলে দেয়া হয়েছে পর্যটকদের জন্য।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইইউ‌’র শেংগেন অঞ্চল এবং ব্রিটেন থেকে এখন পর্যটকরা স্পেনে আসতে পারবেন।

তবে তাদেরকে বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা করাতে হবে, এবং জানাতে হবে তারা আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা। যোগাযোগের ঠিকানাও দিতে হবে।

সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নিয়মও বহাল থাকছে। প্রকাশ্য স্থানে লোকজনকে দেড় মিটার দূরে দূরে থাকতে হবে।

দোকানে, গণপরিবহনে এবং যেসব জায়গায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা সম্ভব নয় সেখানে মুখে মাস্ক পরতে হবে। বার বার হাত ধুতে হবে।

স্পেনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সবচেযে গুরুতর চেহারা নিয়েছিল। দেশটিতে কোভিড -১৯ আক্রান্ত হয়ে ২৮ হাজার ৩০০রও বেশি মানুষ মারা গেছে , এবং মৃত্যুর এই সংখ্যা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে তৃতীয সর্বোচ্চ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস-জনিত লকডাউন প্রতিদিনই একটু একটু করে শিথিল করা হচ্ছে – কিন্তু তার মধ্যেই কিছু দেশে নতুন করে সংক্রমণের খবরও আসছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে ৪৮ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। রাজধানী সোলে নতুন সংক্রমণ সামাল দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ।

এপ্রিলে লকডাউন শিথিল করার পর থেকেই দেশটির নানা জায়গায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন নতুন ‘ক্লাস্টার’ তৈরি হচ্ছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে নতুন করে কেউ মারা যায়নি।

জার্মানিতে নর্খ রাইন ওয়েস্টফ্যালিয়ায় একটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে ১ হাজার কর্মী কোভিড-১৯ পজিটিভ বলে চিহ্নিত হয়েছে। আরো ৭ হাজার কর্মী ও তাদের পরিবারকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশে গত একমাসের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবচেয়ে বড় উর্ধ্বগতি দেখা যাবার পর রাজ্যটিতে জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো চার সপ্তাহ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড ও চীনের বেইজিংয়ে এখনো নতুন সংক্রমণ চিহ্নিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের একটি দ্বিতীয় ঢেউ আসছে কিনা।

তারা বলছেন দ্বিতীয় ঢেউ বলতে যা বোঝায় – তা ইরানে ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

ভারতে পর্যায়ক্রমে লকডাউন শিথিল করার মধ্যেই একদিনে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে ১৫ হাজারের বেশি। দেশটিতে কোভিড -১৯ সংক্রমণ শুরু হবার পর একদিনে সংক্রমণের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। ভারতে মোট সংক্রমণ এখন ৪ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

Sharing is caring!