করোনা ঠেকাবে এমএমআর ভ্যাকসিন!

মরণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। সেই লক্ষ্যে গবেষকরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অন্যান্য রোগের ভ্যাকসিনও তারা পরীক্ষা করে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক হাম, মাম্পস, এবং রুবেলার প্রতিষেদক ‘এমএমআর’ নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, এটি করোনাভাইরাসে তীব্রভাবে আক্রান্তদের ওপর কার্যকর প্রভাব রাখবে।

সিএনএনের বরাতে জানা যায়, করোনাভাইরাসের ওপর এমএমআর ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা নিয়ে বিখ্যাত মেডিকেল সাময়িকী এমবিয়োতে একটি চিঠি লিখেছেন মার্কিন গবেষকরা। তাদের মতে, তিনটি ভাইরাসজনিত রোগ হাম, মাম্পস, এবং রুবেলা থেকে শিশুদের রক্ষায় প্রয়োগ করা এই ভ্যাকসিনের কার্যককারিতা বাস্তবে আরো সুদূরপ্রসারী। এই ভ্যাকসিন মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েকগুণ বেশি কার্যকর করে তোলে। যার কারণে দেহ অন্যান্য ভাইরাসও প্রতিরোধ করতে পারে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন লিউসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক পল ফিদেল ও তুলানে ইউনিভার্সিটির মাইরি নবের।, তারা এমবিয়োর উদ্দেশে দেয়া চিঠিতে বলেন, এমএমআর ভ্যাকসিন দেহে এমন একটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার তৈরি করে, যা অনেক সংক্রামক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। করোনার এই মহামারিতে তীব্র ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ওপর এর প্রয়োগে ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। এর জন্য আমাদের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে হবে।

তারা বলেন, এই ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগে কোনো ঝুঁকি নেই। আমরা যদি অসফল হই, তাও কিছু মানুষের দেহে হাম, মাম্পস, এবং রুবেলা ভাইরাসের ভ্যাকসিন থাকবে।

সিএনএন বলছে, গবেষকরা একটি তত্ত্ব থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন। তা হচ্ছে, করোনা মহামারির শুরু থেকেই দেখা গেছে শিশুদের তুলনায় বয়স্করা বেশি সংক্রমিত হচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ হতে পারে শিশুকালে দেহে কিছু ভ্যাকসিনের প্রয়োগ করা হয় যার প্রভাব বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে। শিশুদের মধ্যে এসব ভ্যাকসিন সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে, তাই তাদের দেহে করোনাভাইরাস তেমন তীব্র সংক্রমণ ঘটাতে পারে না। যা একটি হলো এমএমআর।

Sharing is caring!