করোনায় আক্রান্ত এক পরিবারের ১৬ সদস্য

করোনাকালের শুরু থেকে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে ছুটে বেড়ানো বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক ছাত্র নেতা লক্ষ্মীপদ দাশ অবশেষে নিজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। শুধু তিনি একাই নন। নমুনা পরীক্ষায় একে একে আক্রান্ত হলেন তার পরিবারের আরো ১৫ জন। সারা দেশে একই পরিবারের ১৬ জনের করোনা আক্রান্তের অন্যতম ঘটনা এটি।গত ১৭ জুন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তিনি ছাড়াও তার স্ত্রী জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সীমা দাশ, কন্যা শ্রেয়া দাশও করোনা পজিটিভ হন। পরদিন ১৮ জুন শনাক্ত হয় এই পরিবারের আরো চারজন। ১৯ জুন এই পরিবারের আরো ৯ জনের নমুনায় কভিড-১৯-এর সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে লক্ষীপদ দাশের দুই বড় ভাই এবং তাদের সন্তানেরা রয়েছেন।

পারিবারিক সুত্র জানায়, বান্দরবান শহরের রাজার মাঠ এলাকার একই বাড়িতে অবস্থানকারী এই যৌথ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ায় তাদের সেবা-যত্ন নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।লক্ষ্মীপদ দাশ তাদের বাড়ির পাশে পুলিশ প্লাজায় অবস্থিত ইমান্যুয়েল হাসপাতাল-এর চেয়ারম্যান। করোনা পরিস্থিতিতে বান্দরবান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি মনিটরিং কমিটির অন্যতম সদস্যও। এসব দায়িত্বের বাইরে পাঠত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং-এর নেতৃত্বে গঠিত করোনা পরিস্থিতিতে নাগরিক উদ্যোগের অন্যতম সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি অনেকের সংস্পর্শে আসেন।এসব কর্মকাণ্ডের কোন পর্যায়ে লক্ষ্মীপদ দাশ কার সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হন- তা তিনিও বুঝতে পারছেন না। অন্যদিকে পুরো পরিবার তার দ্বারা সংক্রমিত, নাকি পরিবারের অন্য কোনো সদস্য করোনার উৎস- তা এখনো জানা যায়নি। কেউ কেউ মনে করছেন, অসুস্থ মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে গত ৮ জুন ঢাকায় স্থান্যন্তর করার কাজে যুক্ত হয়ে তিনি অন্য কারো সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হতে পারেন।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডাক্তার অং সুই মারমা জানান, করোনা আক্রান্ত মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে সামরিক হেলিকপ্টারে ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মন্ত্রীর খুব কাছাকাছি থেকেছেন। কিন্তু এ জন্য এখান থেকেই তিনি আক্রান্ত হয়েছেন- এমনটাও বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, সেদিন তিনি নিজে, পুলিশ সুপার, জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন সমুহের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন- তাদের মধ্যে আর কেউ এখনো আক্রান্ত হননি। সবশেষ খবর অনুযায়ী লক্ষ্মীপদ দাশের পরিবারের সবাই এখনো নিজেদের বাড়িতে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন।

Sharing is caring!