চিনের উদ্বেগ বাড়িয়ে বিশ্বের সবথেকে উঁচু এয়ারস্ট্রিপে ‘হারকিউলিস’ নামাল ভারত

নয়াদিল্লি: চিন সীমান্তে সংঘাত চরমে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এরই মধ্যে চিনকে পাত্তা না দিয়েই লাদাখে বিশ্বের সবথেকে উঁচু এয়ারস্ট্রিপে নামানো হল ভারতের সুপার হারকিউলিস। বছর কয়েক আগে ওই এবারস্ট্রপ কার্যকর করা হয়েছে। আর সেখানেই নামানো হল বায়ুসেনার C-130J সুপার হারকিউলিস।

ভারত-চিন সীমান্তে পরিস্থিতি যেভাবে চরম আকার নিচ্ছে, তাতে সবরকমের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ভারতীয় সেনা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ফাইটার জেট মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত পরিদর্শনও করে এসেছেন বায়ুসেনা প্রধান। এই পরিস্থিতিতে সুপার হারকিউলিসের অবতরণ কার্যত মনোবল বাড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনার।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বিসাল আকারে এয়ারক্রাফটে করে সৈন্য, জিনিসপত্র বহন করা সম্ভব।

এবার ফোর্সের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মঙ্গলবার সকাল ৬ টা ৫৪ মিনিটে C-130J সুপার হারকিউলিস অবতরণ করেছে লাদাখেব বিশ্বের সবথেকে উঁচু দৌলত বেগ ওল্ডি এয়ারস্ট্রিপে। আকসাই চিন এলাকায় ১৬৬১৪ ফুট উঁচু ওই এয়ারস্ট্রিপে অবতরণ করে ওই বিমান। যাতে ছিলেন কমান্ডিং অফিসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন তেজবীর সিং ও কয়েকজন অফিসার।

৪৩ বছর আগে ২০০৮ সালে এই এয়ারস্ট্রিপ নতুন করে চালু করা হয়। এই পরিস্থিতিতে আরও একবার সেই এয়ারস্ট্রিপের গুরুত্ব বেড়েছে।
২০ টন ওজন বহন করতে পারে এই সুপার হারকিউলিস বিমান।
৪৫ বছর বাদে প্রথম ভারত-চিন সীমান্তে শহিদ হলেন ভারতের সেনা জওয়ান। এক আর্মি অফিসার সহ শহিদ হয়েছেন মোট ২০ জন। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভের আগুন বাড়ছে দেশ জুড়ে। প্রায় প্রত্যেকদিন সীমান্তে আর্মি অফিসার স্তরের বৈঠক হওয়া সত্বেও পিছু হটছে না চিন। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই লে ও শ্রীনগরে এয়ারবেস পরিদর্শন করে এসেছেন ভারতের বায়ুসেনা প্রধান আরকেএস ভাদুরিয়া। এয়ারবেস গুলিতে প্রস্তুতি কেমন, তা দেখার জন্যও তিনি গিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে যাতে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া যায়, সেই প্রস্তুতিই দেখে এলেন তিনি।

ইতিমধ্যেই ভারত একাধিক ফাইটার জেট সাজাতে শুরু করেছে ওইসব এয়ারবেসে। মনে করা হচ্ছে সীমান্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই এয়ারবেসগুলিই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

১৫ জুন গভীর রাতে ভারত ও চিনের সেনার চরম সংঘাত হয়। সেখানেই শহিদ হন আর্মি অফিসার সহ ২০ জওয়ান। অন্তত ৭৬ জন সেনা আহত অবস্থঅয় হাসপাতালে ভর্তি বলেও জানা গিয়েছে। এই ঘটনার ঠিক পরেই ১৭ ও ১৮ জুন লে ও শ্রীনগরের এয়ারবেস গুলি পরিদর্শন করে আসেন এয়ার ফোর্স চিফ।

Sharing is caring!