বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: এ বছরই মিলবে করোনার টিকা

মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত বিশ্ব। এ থেকে মুক্তি পেতে চলছে দিন-রাত গবেষণা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দুই শতাধিক গবেষণা চলছে করোনার টিকা আবিষ্কারের লক্ষ্যে। এখনো চূড়ান্ত খবর না পাওয়া গেলেও বেশ কয়েকটি গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল মিলেছে।

এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, চলতি বছরের মধ্যেই দুই একটি টিকা বাজারে আসতে পারে। বছরের শেষ নাগাদ কয়েক লাখ ডোজ টিকা তৈরি সম্ভব হবে বলে আশা করছে জাতিসংঘের এ সংস্থাটি।

এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৌম্য স্বামীনাথান বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান।

স্বামীনাথান জানান, বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বিশ্বব্যাপী দুই শতাধিক টিকা নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে অন্তত ১০টি মানবদেহে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ কর্মকর্তা বলছেন, ‘ভাগ্য যদি খুব ভালো হয়, তাহলে চলতি বছরের মধ্যে একটি অথবা দুটি সফল টিকা পেতে পারে বিশ্ব।’ এর ওপর ভিত্তি করেই কাজ চলছে। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো দ্রুত কাজ করায় বছরের শেষ নাগাদ ২০০ কোটি ডোজ টিকা তৈরি করা যাবে বলেও জানান তিনি।

সৌম্য স্বামীনাথান বলছেন, টিকা আবিষ্কার হলে তিন গ্রুপের মানুষের জন্য এটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়বে। তারা হলেন- করোনাযোদ্ধা তথা চিকিৎসাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, যারা সামনের কাতারে থেকে কাজ করছেন। আর তৃতীয় গ্রুপের লোকজন হলেন- সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক ও ডায়বেটিক রোগী এবং শহরের বস্তি এলাকা বা কেয়ার হোমের উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা মানুষ।

এর আগে গত মাসে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বছর শুরুর আগেই এক বা দুটি করোনার টিকা আসতে পারে। ভয়ংকর এই ভাইরাসকে পরাস্ত করতে দেড় শ কোটি ডোজ টিকার দরকার হবে বলেও জানান কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা।

এদিকে, মার্কিন সরকারের কোভিড-১৯ বিষয়ক কমিটির প্রধান ও শীর্ষ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফুসিও গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শিগগিরই করোনাভাইরাসের একটি টিকা আসবে। ফলে বর্তমানের মতো বিস্তৃত পরিসরে আর লকডাউনের প্রয়োজন পড়বে না।

মার্কিন জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন বিশ্বের ৮৫ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি।

Sharing is caring!