আর লকডাউনের দরকার হবে না,স্কুল-কলেজ খুলে দিন: মার্কিন শীর্ষ বিজ্ঞানী

যুক্তরাষ্ট্রের করোনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রধান ড. অ্যান্থনি ফাউসি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রে আর লকডাউনের দরকার হবে না।দেশটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।বার্তা সংস্থা এএফপিকে বৃহ্স্পতিবার তিনি বলেন,আমি আশাবাদী যে শিগগিরই বিশ্ব একটি ভ্যাকসিন পাবে,যা মহামারির অবসান ঘটাবে।ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের মতো বহু এলাকায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছে,সেখানে লকডাউন কতটা কার্যকর এমন প্রশ্নের জবাবে ফাউসি বলেন,আমি মনে করি না, আমরা লকডাউনে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আর কথা বলব।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের এই পরিচালক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পক্ষে। ‘যেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নেই, সেখানে স্কুল খুলে দিতে কোনো সমস্যা নেই। যেসব অঞ্চলে সংক্রমণ এখনো চলছে, সেখানে অপেক্ষা করতে হবে’-যোগ করেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্র সংক্রমণের নিশ্চিত সংখ্যা ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে। সেখানে প্রাণহানির সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। করোনাভাইরাস ছড়ানোর মূলকেন্দ্র হয়ে ওঠা নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি ইতমধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনেছে।দেশটিতে ২০টি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

অন্য রোগের টিকার ব্যবহারে করোনার চিকিৎসার বিষয়ে ফাউসি বলেন,করোনাভাইরাসের টিকার সঙ্গে এইচআইভির টিকার তুলনা করা যাবে না। করোনাভাইরাস টিকার বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী, কারণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী এ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধী ক্ষমতা ভাইরাসটিকে পরাজিত করতে পেরেছে। এ থেকে বোঝা যায়, প্রকৃতি আপনাকে এটি দূর করা সম্ভব,সে প্রমাণ দেয়।যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেরে ওঠার পর তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, বিজ্ঞানীর আত্মবিশ্বাসী যে এই অ্যান্টিবডি মানবসৃষ্ট অ্যান্টিজেন দ্বারাও তৈরি হতে পারে। ফাউসি বলেন, মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে পশুর ওপর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের প্রাথমিক গবেষণা সম্পর্কে তিনি সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেন। মানব গবেষণাতেও প্রাথমিক ফলাফল এটি উৎসাহজনক ফল দেখিয়েছে।মডার্নার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেদের তৈরি ভ্যাকসিন সাময়িকভাবে এগিয়ে গেলেও এটি চূড়ান্তভাবে সফল হবে কি না, তা এখন্ও নিশ্চিত নয়।

Sharing is caring!