হঠাৎ ঘূর্ণিপাকে লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়ি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের মহিউদ্দিননগর গ্রামে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী টর্নেডোর আঘাতে এলাকার অন্তত ১৫টি বাড়িঘর মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আলম ভূঁইয়া মুবাশ্বের এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য সহযোগিতা করেন। টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত সাহেদা বেগম জানান, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ করে একটি ঘূর্ণিপাক এসে আমার ঘরবাড়ী সব উড়িয়ে নিয়ে যায়। ঝড়ের এ সময় আমি আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে-নাতিসহ ঘরে অবস্থান করছিলাম। এ সময় মনে হলো একটি আলোক রশ্মি ও আগুনে পুড়ে যাওয়ার বাজে গন্ধ পাওয়া যায়। টর্নেডো চলাকালে তার দুই বছরের নাতিকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে ঘরের মধ্যেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করি।

ক্ষতিগ্রস্ত কাজী মমিনুল ও হারুন মিয়া জানান, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি ঘর টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ঘরবাড়ি। ঘূর্ণীপাক টিনের চালা নিয়ে ফেলেছে বাড়ী থেকে আধা কিলোমিটার দূরের খালে। এখন আমরা খোলা আকাশের নিচে। তবে সরকারের থেকে আমরা তাৎক্ষনিক সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আলম ভূঁইয়া মুবাশ্বের জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ীঘরের টিনের চালা সহ সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে যায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই এ ঘটনায় তারা হত বিহ্বল হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। ঝড়ে অন্তত ১৫টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। তিনি ঘটনা স্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দুই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করেন। পরে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের খবর দেন। ব্রাহ্মণউপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ঝড়ের খবর পেয়ে তিনি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। পরে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ৬ হাজার টাকা এবং দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন দেন। এছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নগদ দুই হাজার টাকা করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদান করার কথা জানান তিনি।
এর আগে গত ৬ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরে টর্নেডো আঘাতে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়।

Sharing is caring!