প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার তালিকায় কোটিপতি, কাউন্সিলরের স্ত্রীর নাম

নওগাঁর পত্নীতলায় করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ২ হাজার ৫০০ টাকার মানবিক সহায়তার তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকায় স্বর্ণের ব্যবসায়ী, কোটিপতি, কাউন্সিলরের স্ত্রীর নাম পাওয়া গেছে। আর বাদ পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।

প্রকৃত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করায় তালিকায় স্থান পেয়েছে কোটিপতি, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সুদখোড়, ঘুষখোড়ের নাম। শুধু তাই নয় নজিপুর পৌরসভার একজন কাউন্সিলর নিজের স্ত্রীর নামে টাকা উত্তোলন করার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন। এ ছাড়াও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম।

এ নিয়ে এলাকায় চলছে জোর আলোচনা ও সমালোচনা। এ দিকে তালিকায় নিজেদের নাম না থাকলেও কোটিপতির নাম থাকায় দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ৭ হাজার ৯২০ জন দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রদান শুরু হয়েছে। যার মধ্যে নজিপুর পৌরসভায় রয়েছে ৬৬০ জন।

এ বিষয়ে নজিপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অরুণ কুমার পাল জানান, গরীব লোকদের পাশাপাশি যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতি করছেন কিছুই পাননি। এমন নেতাকর্মীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নিজের স্ত্রীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওবাইদুল ইসলাম নান্টুর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমার স্ত্রী নাম তালিকায় থাকা স্বাভাবিক। কারণ আমি গরীব।

একই বিষয়ে নজিপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মজিদ জানান, শতকরা ৩৫ শতাংশ রাজনৈতিকভাবে তালিকা প্রস্তুত হওয়ায় কিছু সম্পদশালী লোকজন স্থান পেয়েছে সত্য। তবে আমি যে সব নাম দিয়েছি তারা সবাই গরীব।

এ ব্যাপারে নজিপুর পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবির চৌধুরী জানান, নীতিমালা অনুযায়ী তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য লোক পাওয়া যায়নি। যারা গরীব সবাই কোনো না কোনো সহায়তা পেয়েছেন। এ কারণেই কিছু সম্পদশালী লোকজন তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

Sharing is caring!