বাসে ওঠার আগে সাবধান!

রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা আজমত হোসেন কল্যাণপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিদিনই তাকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মিরপুরের বাসে উঠতে হয়। বাসে ওঠার সময় হেলপার বোতল থেকে ফেনা জাতীয় কী যেন স্প্রে করেন। প্রথম প্রথম টের না পেলেও পরবর্তীতে খেয়াল করেন স্প্রে করার পর থেকেই তার হাতে ছোট ছোট দানা জাতীয় কিছু উঠছে। এগুলো যেখানে ওঠে সেখানে চুলকায়।

আজমত হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশে তারা বাস যাত্রীদের জন্য জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জীবাণুনাশকের নামে তারা বোতলে অন্য কিছু স্প্রে করছে।

তিনি বলেন, গণপরিবহনের মালিকদের কী ধরনের জীবাণুনাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে? সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গণপরিবহনে সত্যিই জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে কি-না তা দেখার জন্য কোনো প্রতিপক্ষ আছে কিনা তা তিনি জানতে চান।

শুধু আজমত হোসেনই নন, গণপরিবহনে কী স্প্রে করা হচ্ছে, এগুলো গুণগত ও স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা অনেকেই জানতে চান। তাদের অভিযোগ, পানির সঙ্গে রঙ মিশিয়ে কিংবা পানিতে ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে যাত্রীদের হাতে ছিটানো হচ্ছে। ফলে অনেকের বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি রয়েছে তাদের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

প্রায় দুই মাসের অধিক সময় বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে গণপরিবহন চালু হয়েছে। সরকারিভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিটি গণপরিবহনে জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা এবং হেলপার-ড্রাইভারকে মাস্ক পরিধান করতে বলা হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলা বাসগুলোতে চালক ও হেলপারদের অধিকাংশই মুখে মাস্ক পরিধান করছেন না। প্রতিটি বাসের পাদানিতে হেলপাররা স্প্রে বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। জীবন ও জীবিকার তাগিদে যেসব যাত্রী বাসে উঠছেন, বাসে ওঠার মুহূর্তে তাদের হাতে বোতল থেকে স্প্রে করছেন। তবে এগুলো কী ধরনের জীবাণুনাশক, সে সম্পর্কে একাধিক বাসচালক ও হেলপারের কাছে জানতে চাইলে সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

Sharing is caring!