ব্রেকিং নিউজ: সংসদে বোমা ফাটালেন বিএনপি এমপি হারুন

দাম্ভিকতা ও অহংকার দিয়ে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবেনা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তার মতে, ক্ষমতাসীনদের জুলুম অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব হিসেবে করোনা সারা পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ছাড়া এর থেকে মুক্তির আর কোন উপায় নেই। তিনি করোনা মোকাবেলায় জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি এবং জাতীয় ক্ষত দূর করার জন্য জাতীয় উদ্যোগ গ্রহন করার আহবান জানান।

সোমবার সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন। তিনি করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যখাতের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা একটা চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সংসদে এসেছি। সংসদে আসার আগে প্রধামন্ত্রীকে নিষেধ করা হয়েছে বলে তিনিই জানিয়েছেন। সারা বাংলাদেশ সারা বিশ্ব আজকে নি:সন্দেহে আজকে একটি কঠিন অবস্থায় উপনিত হয়েছে। কুরআনে এসেছে আগে আল্লাহ আজাব দিয়েছেন অঞ্চল ভিত্তিক। এবার গোটা বিশ্বকে আল্লাহ ঘিরে ফেলেছেন। এটার কারণ আমরা যারা ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার লোভে, ক্ষমতার মোহে আজকে সমস্তকিছুকে আমরা ভুলে গিয়েছি। জুলুম নিপিীড়ন মানুষের ওপর অত্যাচারের মাত্রা এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ আজাব আজকে আমরা যারা ক্ষমতায় রয়েছি তাদেরকে বিরাট পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমি মনে করি এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যে আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্র্পণ করতে হবে। আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।

হারুনুর রশীদ বলেন, আমাদের দাম্ভিকতা অহংকার দিয়ে কোনভাবেই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবো না। সুতরাং আমি অনুরোধ করবো আমরা আমাদের অবস্থান, আমাদের জায়গাগুলো চিন্তা করি। আজকে আমাদের মন্ত্রীরা যখন বিভিন্ন বিবৃতি দেন হাস্যকর লাগে। কখনো বলেন যে, করোনা থেকে আমরা শক্তিশালী আমরা করোনাকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিজয় অর্জন করবো। এটা বুঝতে হবে, এটা আল্লাহ কর্র্র্তৃক আজাব। গত ৭ মাস যাবত সারা পৃথিবীকে কিভাবে গ্রাস করেছে। সারা পৃথিবী বিপর্যন্ত। সারা পৃথিবীর চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত। আমি অনুরোধ করবো পরিস্থিতিকে মোকাবেলার জন্য সরকার অবশ্যই জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহন করবেন। আজকে জাতিগত যে ক্ষতগুলো সৃষ্টি হয়েছে এই ক্ষত দূর করার জন্য জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রায় ১২ বছর এই সরকার ক্ষমতায়। এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা কি? সরকারি হাসপাতালগুলোর কি অবস্থা? বিএসএমএমইউ’র মতো একটা স্পেশালাইজড হাসপাতাল সেখানে এখন পর্যন্ত কোভিডের চিকিৎসা চালু করা যায়নি, সেখানে আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি। অথচ গণস্বাস্থ্যের মতো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ কোডিড-১৯ পরীক্ষার কিট তারা উদ্ভাবন করেছে। সেই কিটের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার, কি কারণে দিচ্ছে না সেটারও কোন ব্যাখাও নেই। অনুমোদন দিতে কেন এতো সময় লাগছে?

তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট অনুমোদন দিতে পারলে উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারতাম। গণস্বাস্থ্যের মতো প্রতিষ্ঠান যদি এধরণের কিট উদ্ভাবন করতে পারে বিএসএমএমইউ অভিজ্ঞ চিকিৎসক গবেষক সেখানে কি কাজ হচ্ছে?

করোনা নমুনা পরীক্ষার হার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে উপসর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, নমুনা পরীক্ষা হার বাড়ানো। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দেশ, প্রতিদিন মাত্র ৮-১০ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করছি, তার ফলাফল প্রকাশ করছি। এটি খুবই সীমিত। এখন পর্যন্ত জেলা হাসপাতালগুলোতে কোন ধরণের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের ১০ দিন পর ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এটা দু:খজনক।

হারুনুর রশীদ বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন-আগে খরচ করব, টাকা কোথা থেকে আসবে জানি না। একটা সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে এরকম বক্তব্য আসতে পারে? বাজেট কি জন্য তাহলে? বাজেট দিয়েন না, টাকা খরচ করতে থাকেন। টাকা খরচ করার পর বাজেট দিয়েন।

Sharing is caring!