নিজেদের রেশন অসহায়দের ঘরে তুলে দিচ্ছেন সেনাবাহিনী

প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণকে সচেতন রাখতে কক্সবাজার জেলা ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার চারটি উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন। মানুষকে করোনা বিষয়ে সচেতন করা, চিকিৎসা সহায়তা, জীবাণুনাশক কার্যক্রম পরিচালনা ও লকডাউন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কাছে নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। সংকটময় এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে, আধার কাটাতে অতি দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৪ মে) জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন রামু সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। তারা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে চাল, ডাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অভাবগ্রস্ত, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সম্যক জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনা প্রয়োজনে কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করেন সেনা জওয়ানরা। পাশাপাশি তারা বেশি বেশি হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম রামু ও পেকুয়া উপজেলায় অসহায় মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্যালাইন বিতরণের পাশাপাশি ছোট ছোট বাচ্চাদের চিপস ও চকলেট বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা।

এদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার লকডাউন ঘোষণার পর থেকে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি চেকপোস্ট স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী। জেলা শহর ছাড়াও আশপাশের উপজেলায় টহল কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। টহলরত সেনা সদস্যরা মানুষের সমাগম দেখলেই গাড়ি থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন। সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে জরুরি প্রয়োজনে যারাই বাইরে বের হচ্ছে তাদের প্রায় সবাইকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় ১১ লাখ মিয়ানমার নাগরিকের ৩৪টি ক্যাম্পে করোনাভাইরাস সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা। সেনা ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে বার্মিজ ও ইংরেজি ভাষায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ক্যাম্পগুলোতে দিনব্যাপী বার্মিজ এবং ইংরেজি ভাষায় সচেতনতামূলক মাইকিং চলমান রয়েছে। মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্প এলাকায় সেনাবাহিনী পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি যৌথ টহল কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণে বাড়িয়েছে।

Sharing is caring!