এবার বাংলাদেশের গরু ছাগলে বিরল রোগ সংক্রমণ শুরু

দেশজুড়ে চলছে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এর মধ্যেই ময়মনসিংহ, নীলফামারী, নওগাঁসহ বেশ কয়েকটি জেলার গবাদিপশুর মাঝে ব্যাপক হারে বিরল এক রোগ দেখা দিয়েছে। এটিকে স্থানীয়রা গো-বসন্ত বললেও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, লাম্পি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ এটি।

এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে গবাদিপশুর চামড়া ফুলে গোটা গোটা ঘায়ের মতো হয়ে যায়। তারপর জ্বর আসে। অনেক সময় গরুর পায়ে পানি জমতে পারে এবং খাবারে অরুচি দেখা দেয়। এক পর্যায়ে চামড়ায় ফোসকা পড়ে ইনফেকশন হতে শুরু করে। গত বছর এই রোগ প্রথমবারের মতো দেখা দিলেও এ বছর এর ব্যাপকতা অনেক বেশি প্রকাশ পাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছর প্রায় একই সময়ে প্রথমবার দেশে এই রোগের বিস্তার দেখা দিয়েছিল। এ রোগে গবাদিপশুর মৃত্যুর আশঙ্কা কম। তবে দুধ উৎপাদন এবং চামড়ার গুণগত মানের ওপর প্রভাব ফেলে। আক্রান্ত পশুর চামড়া বিক্রির অযোগ্য হয়ে পড়ে। আর গাভী আক্রান্ত হলে এর দুধের উৎপাদন কমে যায়।

এ রোগটিতে আক্রান্ত হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে বাছুর। আক্রান্ত অনেক বাছুর ইতোমধ্যে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের সৈয়দপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই রোগের বিস্তার হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। আবার রোগটি বেশ সংক্রামক হওয়ায় এটি মশা-মাছির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। আক্রান্ত কোনো গরুর শরীরে মশা কামড় দিয়ে যদি সেটি আবার সুস্থ কোনো গরুর ওপর বসে, তাহলে সেই গরুটিও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এদিকে, অজানা এই রোগের কারণে এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে আছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, আগে কখনো গরুর শরীরে এ ধরনের রোগ দেখেননি। আশপাশের প্রায় প্রতিটি বাড়ির গরুর মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার কারণে গরুগুলোকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসেও নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Sharing is caring!