আট ধনীর হাতে বিশ্বের অর্ধেক মানুষের সমান সম্পদ কার কত টাকা জেনে নিন

বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামানসিও ওর্তেগা, মাইকেল ব্লুমবার্গ, কার্লোস স্লিম হেলু, জ্যাফ বেজোস ও ল্যারি অ্যালিসন—তাঁরা বিশ্বের শীর্ষ আট ধনী। এ খবর বহু পুরোনো; কমবেশি সবাই জানেন। প্রতিবছরই তাঁদের সম্পদ বৃদ্ধি পায়; কখনো বা কমে। এতে হয়তো ধনী মানুষদের তালিকায় নিজেদের অবস্থান ওঠানামা করে মাত্র। কিন্তু জেনে অবাক হবেন বিশ্বের শীর্ষ আট ধনীর যে সম্পদ আছে, তা বিশ্বের অর্ধেক মানুষের হাতে থাকা সম্পদের সমান। এই আট ধনী চাইলে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের সম্পদ কিনতে পারবেন।
এবার আসি এই আট ধনীর মোট সম্পদের পরিমাণ কত? তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪২ হাজার ৬২০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। অন্যদিকে বিশ্বের ৩৬০ কোটি লোকের হাতে এই সম্পদ আছে।
গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম ‘অ্যান ইকোনমি ফর দ্য নাইনটি নাইন পারসেন্ট’ বা ‘৯৯ শতাংশের অর্থনীতি’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে ধনী-গরিবের বৈষম্যের এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের শহর দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন উপলক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অক্সফাম।
বিশ্বের এক নম্বর ধনী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রের বিল গেটস। তাঁর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৭ হাজার কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ। শীর্ষ আট ধনীর ছয়জনই যুক্তরাষ্ট্রের। অ্যামানসিও ওর্তেগা স্পেন ও কার্লোস স্লিম হেলু মেক্সিকোর বাসিন্দা।
ধনী-গরিবের প্রকট বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনই একটি মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময়। যে অর্থনীতি থেকে শুধু সুবিধাভোগীর শ্রেণি নয়; আমজনতাও সুফল পাবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিরাজমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে শুধু ধনীরাই সুবিধা পাচ্ছেন; গরিবেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আমাদের আরও গরিব করছে। এর পাশাপাশি সমাজকে ভঙ্গুরতা ও অন্যায্যতার দিকে ধাবমান করছে। বিশেষ এই ধনী শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। গরিব মানুষ সুফল পায়, এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বৈষম্যের উদাহরণ: অক্সফামের প্রতিবেদনে ধনী-গরিবের বৈষম্যের বেশ কিছু উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিরাজমান বৈষম্য ক্রমান্বয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। বৈষম্যের কিছু উদাহরণ এখানে তুলে ধরা হলো, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের বড় কোম্পানির সূচক হলো এফটিএসই ১০০। এসব বড় কোম্পানির একজন প্রধান নির্বাহী এক বছরে যা আয় করেন, তা বাংলাদেশের পোশাক কারখানার ১০ হাজার শ্রমিকের এক বছরের আয়ের সমান। আবার ভিয়েতনামের একজন গরিব লোকের ১০ বছরের আয়, ওই দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির এক দিনের আয়ের সমান।
আগামী ২০ বছরে ৫০০ ধনী তাঁদের উত্তরাধিকারীদের হাতে ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ তুলে দেবেন। এর পরিমাণ ১৩০ কোটি লোকের দেশ ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চেয়ে বেশি।
১৯৮৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০ শতাংশ গরিব মানুষের আয় প্রতিবছর গড়ে ৩ ডলার করে বেড়েছে। অন্যদিকে ওই সময়ে শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর আয় ১৮২ গুণ বেড়েছে। আর ১ শতাংশ ধনী গোষ্ঠীর হাতে যে সম্পদ আছে, তা বিশ্বের বাকি সব লোকের সম্পদের চেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্রমাগত বৈষম্য বৃদ্ধির কারণে অপরাধ বাড়ছে, নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। দারিদ্র্যবিমোচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। এর ফলে হতাশা ও আতঙ্কে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
অক্সফাম বলছে, ব্রেক্সিট থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সফলতার পেছনে ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং গতানুগতিক রাজনীতিতে স্বপ্নভঙ্গ। ধনী দেশের মানুষেরা এমন বৈষম্য বরদাশত করেনি।
বৈষম্যের বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে অক্সফাম। প্রথমত, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ধনী মানুষের পক্ষে কাজ করে। ২০১৬ সালে বিশ্বের বড় ১০টি করপোরেট প্রতিষ্ঠান যে আয় করেছে তা বিশ্বের ১৮০টি দেশের সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের সমান। দ্বিতীয়ত, শ্রমিক ও উৎপাদকদের কাজে বাধ্য করে মুনাফা বৃদ্ধি করা। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীর বেতন ওই কোম্পানির একজন সাধারণ কর্মীর ৪১৬ গুণ বেশি। তৃতীয়ত, কর ফাঁকি দিয়ে মুনাফা বৃদ্ধি করা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি ডলার কর ফাঁকি দেওয়া হয়। চতুর্থত, শেয়ারধারীদের বেশি লভ্যাংশ দেওয়ায় মনোযোগী কোম্পানিগুলো। ১৯৭০ সালে যুক্তরাজ্যে কোম্পানির মুনাফার গড়ে ১০ শতাংশ পেতেন শেয়ারধারীরা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে।
সেই আট ধনী
বিশ্বসেরা আট ধনীর সম্পদের পরিমাণ ৪২ হাজার ৬২০ কোটি মার্কিন ডলার। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই যুক্তরাষ্ট্রের। বাকি দুজনের একজন মেক্সিকোর, অন্যজন স্পেনের
১ বিল গেটস
সম্পদ ৭৫ বিলিয়ন ডলার
মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
২ অ্যামানসিও ওর্তেগা
৬৭ বিলিয়ন ডলার
ব্যবসায়ী
স্পেন

ওয়ারেন বাফেট
৬০.৮ বিলিয়ন ডলার
ব্যবসায়ী–বিনিয়োগকারী
যুক্তরাষ্ট্র
৪ কার্লোস
স্লিম হেলু
৫০ বিলিয়ন ডলার
ব্যবসায়ী
মেক্সিকো
৫ জেফ বেজোস
৪৫.২ বিলিয়ন ডলার
ই-কমার্স ওয়েবসাইট আমাজনের প্রধান
যুক্তরাষ্ট্র
৬ মার্ক জাকারবার্গ
৪৪.৬ বিলিয়ন ডলার
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা, যুক্তরাষ্ট্র
৭ ল্যারি অ্যালিসন
৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার
ওরাকলের
প্রধান নির্বাহী
যুক্তরাষ্ট্র

মাইকেল ব্লুমবার্গ
৪০ বিলিয়ন ডলার
নিউইয়র্কের
সাবেক মেয়র
যুক্তরাষ্ট্র
সূত্র: অক্সফাম

Sharing is caring!