অন্য দেশে করোনা কমলেও কেন বাংলাদেশে দিন দিন বেড়ে চলেছে?

ব্রাজিলে করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ সত্ত্বেও দেশটিতে লকডাউন শিথিল হওয়ায় রিও ডি জেনিরো সৈকতে ঢল নেমেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। মৃত্যুর দিক দিয়ে একদিন আগেই ব্রিটেনকে ছাড়িয়ে যাওয়া ব্রাজিল এবার আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় রাশিয়াকে ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে।

করোনার রেকর্ড সংক্রমণের মধ্যেও লকডাউন শিথিল হতে যাচ্ছে মেক্সিকোতেও। এদিকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে খাদ্যদ্রব্যের একটি পাইকারি মার্কেটে নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় পুনরায় লকডাউন করা হয়েছে ১১টি আবাসিক এলাকা।

ব্রাজিলে কোনভাবেই টেনে ধরা যাচ্ছে না প্রাণঘাতী করোনার লাগাম। প্রতিদিনই রেকর্ড ছাড়াচ্ছে আক্রান্তও মৃতের সংখ্যা। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি সব রাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃতের হার এখন লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে।

এতকিছুর পরও ব্রাজিলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সম্প্রতি শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। এতে শনিবার (১৩ জুন) রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সমুদ্র সৈকতে ঢল নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে, করোনা সংক্রমণের রেকর্ডকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না অনেকে। রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও।

ব্রাজিলের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমার মনে হয় পরিস্থিতি অতটা খারাপ না, যতটা বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। ব্রাজিলের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনেক ধরনের রাজনীতি হচ্ছে। এ ভাইরাসটি মূলত বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট-জনিত সমস্যা যাদের, তাদের জন্য বিপজ্জনক, সবার জন্য না।

অন্যদিকে অভিযোগ জানিয়েও অনেকে বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্ট কোরনা স্বাস্থ্য নির্দেশনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাকে যেসব ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে তিনি ঠিক তার উল্টোটা করেছেন।

একই পরিস্থিতি মেক্সিকোতেও। দেশটিতে প্রতিদিনই রেকর্ড সংখ্যক মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হলেও, অর্থনীতির স্বার্থে দেশজুড়ে লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে এরিমধ্যে শিথিল হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। রাস্তাঘাটে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। বিনোদন-কেন্দ্র ও সৈকতগুলোতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আসতে শুরু করেছেন পর্যটকরা।

তারা বলেন, এখানকার পরিস্থিতি ভালো। আমরা যতটা সম্ভব সতর্ক থেকেই সবকিছু উপভোগ করার চেষ্টা করছি। আমি এখানে আমার পরিবার নিয়ে এসেছি। খুব একটা ভিড় নেই। এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নিরাপদই মনে হচ্ছে সবকিছু।

এর মধ্যেই চীনে নতুন করে আবারও দেখা দিয়েছে করোনার সংক্রমণ। রাজধানী বেইজিংয়ের একটি পাইকারি বাজারে নতুন করে অন্তত ৪৫ জনের দেহে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলায় লকডাউন করা হয়েছে নিকটবর্তী অন্তত ১১টি আবাসিক এলাকা। জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা।

এদিকে নেপালে হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি লকডাউন শিথিল করে সরকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়ায় সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে নেপালে। দেশটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ হাজার।

Sharing is caring!