সুন্দরী নারীদের একটি চক্র গাড়িতে সহযাত্রী হয়ে যা করছে!

সিএনজিতে বসে অথবা পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক/দুই সুন্দরী নারী। যাত্রী হিসেবে অন্য কেউ ওই নারীর সহযাত্রী হতে চাইলেই ফেঁসেছে। যাত্রীবেশি সুন্দরী নারীর অন্য সহযোগীরা এসে ওই ব্যক্তিকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রথমে জিম্মি করে। পরে তাদের আস্তানায় নিয়ে গিয়ে সুন্দরীদের সাথে উলঙ্গ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে।

বগুড়া পুলিশ জেলার শিবগঞ্জ থেকে এ ধরনের একটি চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।গতকাল বৃহস্পতিবার চক্রের সদস্যরা তাদের নানা অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বগুড়া শিবগঞ্জে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে অভিনব কায়দায় ব্ল্যাকমেইল করার পর ধরা পড়ে এই চক্রের সাত সদস্য।

উপজেলা সদরের নাগর বন্দর এলাকার নাটমরিচাই গ্রামের একটি বাসা ছিল এই চক্রের সদস্যদের আস্তানা। খাদ্য কর্মকর্তাকে একই কায়দায় ব্ল্যাক মেইল করার পর বুধবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে।

খাদ্য কর্মকর্তা নিষেধ করা সত্বেও তারা সিএনজিতে জোর করে উঠে বসে। একটু দূরে যাবার পর চলন্ত সিএনজির সামনের সিটে আরও একজন যুবক উঠে বসে। এরপর সিএনজিতে বসে থাকা সুন্দরী মেয়েরা তাদের বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। তারা খাদ্য কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেয়। তারা প্রথমে ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রে মুখে জিম্মি করে খাদ্য কর্মকর্তাকে উপজেলা সদর থেকে ৮/১০ কিলোমিটার দূরে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে আটকে রাখা অবস্থায় চক্রের এই ৩ জনের সাথে যুক্ত হয় আরও চারজন।

তারা খাদ্য কর্মকর্তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেয় টাকা না দিলে সুন্দরী মেয়েদের সাথে তার উলঙ্গ ছবি তুলে ইন্টারনেটে দিবে। একই সাথে তারা অস্ত্র বের করে তার প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে পরিচিত লোকের কাছে ফোন দিয়ে চক্রের সদস্যদের প্রায় ৫০ হাজার টাকা নগদ ও একটি চেক দিয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে ফেরেন।

বিষয়টি তিনি রাতেই এসে থানায় জানালে পুলিশ অভিযান শুরু করে। ঘটনার পর ছিনতাইকারীদের দেয়া বিকাশ ফোন নম্বরের সূত্র ধরে সারারাত অভিযান চালিয়ে ভোর রাতে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শিবগঞ্জের নাটমরিচাই গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে মাসুদ রানা (২৬), একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শাকিল আহম্মেদ, মীরের চক গ্রামের লেবু ড্রাইভারের ছেলে বিপুল আকন্দ (৩০), সংসারদিঘী গ্রামের নাছের উদ্দিনের দুই স্ত্রী তানজিলা বেগম (২৬) ও মাহফুজা বেগম (৩৫), নাটমরিচাই গ্রামের দুলু মিয়ার মেয়ে সাথী বেগম (৩৫) ও সংসারদিঘী পশ্চিম পাড়া গ্রামের সোহরাবের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)।

শিবগঞ্জ সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খোদা শুভ জানান, অভিযোগ পাবার পর পুলিশ ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে সারারাত অভিযান চালিয়ে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে এ চক্রের ৭ জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার আসামিরা আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

তিনি আরও জানান, এ চক্রের সদস্যরা এর আগেও শিবগঞ্জের একাধিকস্থানে ঠিক একই কায়দায় সিএনজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও টার্গেট করা ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা পয়সা আদায় করেছে।পুলিশ তদন্ত করে এসব ঘটনা উদঘাটন করতে কাজ করছে। এ চক্রের আরও সদস্য রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, সুন্দরী নারী দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার একাধিক চক্র রয়েছে। পুলিশের ভয়ে এরা বিভিন্ন উপাই বের করে তাদের কাজ চালিয়ে যায়। অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়গুলো থানায় অবগত করে না। যার কারণে বেশিরভাগ ঘটনাই থেকে যায় অজ্ঞাত। তবে বগুড়া শিবগঞ্জের ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা শহর বাদ দিয়ে উপজেলাগুলোতে এ ধরনের চক্রের শক্ত অবস্থান এটি ভাবা যায় না। এখন তদন্ত করলে আরও অনেক সূত্রই মিলবে।

Sharing is caring!