নাসিমকে নিয়ে অমানবিক স্ট্যাটাস, গ্রেফ’তার হলেন বেরোবি প্রভাষিকা

সদ্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যু নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক স্ট্যাটাস দিয়ে গ্রেফতার হলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষিকা।

সিরাজুম মনিরা নামে ওই প্রভাষক সরকার সমর্থক শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও শহীদ জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সন্তান ও পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ নেতা বর্ষিয়ান রাজনীতিক মোহাম্মদ নাসিম শনিবার (১৩ জুন) মারা যাবার পর তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ব্যঙ্গাত্বক স্ট্যাটাস দেন। যেটি আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা ও বেরোবির শিক্ষক মসিউর রহমান স্ট্যাটাসটির বিষয়ে সরকারের উচ্চমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

শনিবার (১৩ জুন) রাত বারোটার দিকে অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আটক করে তাজহাট থানা পুলিশ। একইদিনে মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে ব্যঙ্গ করে স্টাটাস দিয়ে পরক্ষণেই মুছে ফেলেন তিনি।

আটককৃত ওই শিক্ষিকা সিরাজুম মুনিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার ও সরকার সমর্থক শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

জানা যায়, আজ ১৩ জুন লাইফ সাপোর্টে থাকা সাবেক সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা যান। তাঁর মৃত্যু নিয়েই ওই শিক্ষিকা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যাঙ্গ কর ‘যোগ্য নেতৃত্বে দেশ নাসিম্যা মুক্ত হল’ শিরোনামে পোস্ট দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পোস্টটি সরিয়ে ফেললেও ততক্ষণে পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়ে অভিযুক্তের শাস্তি দাবি জানান।

পরে রাত ১০টার দিকে বিষয়টি ভুল করেছেন স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে পরপর দুইটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন সেই অভিযুক্ত শিক্ষিকা সিরাজাম মুনিরা।

এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার আবুল কালাম আজাদের দায়েরকৃত (মামলা নং ৮) আইসিটি আইনে তাকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখা হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আমি মামলার এজাহার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে থানায় জমা দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ তার মামলা গ্রহণ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। তুষারের দাবি, ওই শিক্ষিকার নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যার দায় থেকে বাঁচাতে পুলিশ প্রশাসনের মামলা নিয়েছে।

তাজহাট থানার চলতি দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়ার এজাহারটি মূ্ল এজাহারের সঙ্গে সম্পূরক হিসাবে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, একটি ঘটনায় দুটি মামলা হয় না।

Sharing is caring!