মুসলিমবিরোধী মন্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি খোয়াচ্ছেন ভারতীয়রা

মুসলিমদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করে মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি খোয়ালেন আরো তিন প্রবাসী ভারতীয়। অভিযোগ, ‘মুসলিমরা ভারতে করোনা ছড়াচ্ছেন’ বলে সোস্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করেছিলেন ওই তিন ব্যক্তি। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এর আগে একই কারণে আরো ৯ জন প্রবাসী ভারতীয় তাদের চাকরি হারিয়েছেন। স্বভাবতই পরপর এই ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে যে ওমান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেশ কিছু ভারতীয়র সোস্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হচ্ছিল। মূলত ভারতে তাবলিগি জামাতের নিজামুদ্দিন মারকাজের ঘটনাটি ঘটার পরই সোস্যাল মিডিয়ায় মুসলিমবিরোধী পোস্ট করা হতে থাকে বলে অভিযোগ। এমনকী, টেলিভিশন বা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও এক শ্রেণির মানুষ মুসলিমবিরোধী প্রচার করতে শুরু করেন বলেও অভিযোগ।

উল্লেখ্য, মার্চ মাসের মাঝামাঝি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তবলিগি জামাতের এক ধর্মীয় সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল। লকডাউন ঘোষণার পরও বহু বিদেশী-সহ হাজার দুয়েক ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষ ওই এলাকায় জমায়েত করে থেকে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় করোনার হটস্পট হয়ে দাঁড়ায় দিল্লির ওই এলাকা। এরপরই সোস্যাল মিডিয়ায় একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী ভারতীয়রাও লাগাতার এ ধরনের মন্তব্য করে বলে অভিযোগ। যার ফলস্বরূপ এবার তাদের চাকরিতে কোপ পড়ল।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বরাবরই ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থা নেয়া হয়। আমিরাতের সাবেক ভারতীয় দূত টুইটারে জানিয়েছিলেন, আমেরিকার ৯/১১-এর সন্ত্রাসবাদি হামলা, বা মিসরের আরব বসন্ত আন্দোলনের পর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কিছু নাগরিক ধর্মীয় উগ্রপন্থাকে সমর্থন করেছিল। তখনই তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এমনকি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর উসকানিমূলক মন্তব্য করা পাকিস্তানি স্কুল শিক্ষিকাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এমনিতেই করোনা পরিস্থিতিতে মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেশকিছু দেশ। তাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিও আছে। ভারতীয় দূত সেসময় দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার কথা তুলে ধরে ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্য তুলে ধরে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১২ জন ভারতীয় চাকরি খোওয়ানোয় পরিস্থিতি আরো জটিল হলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রিন্সেস হেন্দ আল কাসেমিও হিন্দুদের মুসলিমবিরোধী প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেছেন।

তবে ভারতে কিন্তু মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণা থামেনি। সাধারণ কেউ নয়, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পর্যন্ত এই ধরনের মন্তব্য করে যাচ্ছেন। তবলিগি জামাতের এই সম্মেলনের জেরেই করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে অভিযোগ যোগীর। শনিবার একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘গোটা ঘটনায় তবলিগি জামাতের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দাজনক। রোগে আক্রান্ত হওয়া কোনো অপরাধ নয় কিন্তু ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা লুকিয়ে রাখা মারাত্মক অপরাধ। তবলিগি জামাতের সঙ্গে যুক্তরা সেই অপরাধই করেছেন।’

যোগী আরো বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশসহ অন্য যে সব জায়গায় করোনা ছড়িয়ে পড়েছে, তার পিছনে তবলিগি জামাতেরই হাত রয়েছে। ওরা রোগের কথা না লুকোলে, যত্রতত্র সংক্রমণ ছড়িয়ে না দিলে এত ব্যাপক আকার ধারণ করত না করোনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত।’’

জানুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩০১ জন। রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৪৪ জন। উত্তরপ্রদেশে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৮৭ জনের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস মিলেছ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন সেখানে।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন ও আনন্দবাজার পত্রিকা

Sharing is caring!